Academic Performance
Nazrul Islam Chowdhury
প্রাকৃতিক অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পাশে মনোরম পরিবেশে অবস্থিত শহীদ আবদুল আলী একাডেমি দীর্ঘদিন যাবৎ এই এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বর্তমান সরকার শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধিসহ মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শিখন শিখানো কার্যক্রম উৎসাহ ও আনন্দমুখর করে তোলার লক্ষ্যে মাল্টিমিডিয়া সমৃদ্ধ ক্লাশরুম ব্যবহার করে পাঠদান করা হচ্ছে। শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির আন্তরিক ও নিরলস প্রচেষ্ঠায় একটি শিখনবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আগামীতে শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নকল্পে ইতিমধ্যে ভৌত অবকাঠামো, আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, সুসজ্জিত ক্লাশরুম ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করণের মাধ্যমে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম পরিচালনার মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিভিন্ন পদক্ষেপ ক্রমান্নয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিদ্যালয়টি বর্তমানে সুদক্ষ পরিচালনা পরিষদ দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট সমাজ সেবক শ্রদ্ধেয় মরহুম হাজী আবদুল বারী মাতব্বরের সুযোগ্য কৃতি সন্তান হাজী মোঃ মুছা মাতব্বর (আজীবন দাতা সদস্য) বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অদ্যবধি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকল্পে সুদক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছে যা প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর ফলাফল JSC ও SSC তে ধারাবাহিক উন্নয়ন বিদ্যমান। সহপাঠক্রমিক কার্যক্রমে (ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে) রয়েছে অত্র বিদ্যালয়ের দীর্ঘ দিনের ঐতিহ্য।
বিদ্যালয়ের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
সুবিশাল পাহাড়পাহাড়ী নদীঝরনা আর দক্ষিণ এশিয়ার বহত্তর কৃত্রিম কর্ণফুলী হ্রদ (কাপ্তাই লেক) পরিবেষ্টিত রাঙ্গামাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র রিজার্ভ বাজার-এ-১৯৭০ খ্রীষ্টাব্দে অত্র এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্বসমাজ হিতৈষীজ্ঞানতাপস মরহুম হাজী আবদুল বারী মাতব্বর সাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় শহীদ আবদুল আলী একাডেমি (যার পূর্বনাম-কায়দে আজম মেমোরিয়াল একাডেমি)। ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দে মহান স্বাধিনতা যুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত এই প্রতিষ্ঠানটি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলায় মহান স্বাধিনতার ঐতিহ্য লালন করে আসছে। স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালীন জেলা সদরে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তৎকালিন মহকুমা প্রশাসক জনাব মোঃ আবদুল আলী EPCS যুদ্ধ চলাকালীন সময় ২৭ এপ্রিল ১৯৭১ খ্রি: স্বাধীনতার পক্ষে কাজ করতে গিয়ে পাকহানাদারদের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন। স্বাধীনতাত্তোর দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী মহান মুক্তিযোদ্ধা জনাব আবদুল আলীকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হাজী আবদুল বারী মাতব্বর সাহেবের প্রস্তাব অনুসারে বিদ্যালয়ের পুন: নামকরণ করা হয় শহীদ আবদুল আলী একাডেমি। ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি পার্বত্য এলাকায় মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অনেক শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব নিজেদের শ্রমআর্থিক অনুদানও সাহায্যে সহযোগীতার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে মহীরূহে রূপান্তরিত করেছে।
| রবি | সোম | মঙ্গল | বুধ | বৃহঃ | শুক্র | শনি |
|---|

